Tuesday, June 28, 2011

আদালতে ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার কানাডীয় ডলার জরিমানা মোশাররফকে ঘুষ দিয়ে কানাডায় দণ্ডিত নাইকো


আদালতে ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার কানাডীয় ডলার জরিমানা
মোশাররফকে ঘুষ দিয়ে কানাডায় দণ্ডিত নাইকো
সাবেক বিএনপি সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে ২০০৫ সালে একটি দামি গাড়ি ও ভ্রমণব্যয়ের পাঁচ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ায় স্বদেশে দণ্ডিত হয়েছে কানাডীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস। বাণিজ্যিক স্বার্থে বিদেশে ঘুষ দেওয়া প্রতিরোধসংক্রান্ত কানাডার আইনে সে দেশের একটি আদালতে ২০০৯ সাল থেকে এ মামলা চলছিল। নাইকো দোষ স্বীকার করায় গত শুক্রবার ওই আদালত দণ্ড হিসেবে ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার কানাডীয় ডলার (৯৭ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৪ মার্কিন ডলার) জরিমানার আদেশ দেন। ৩০ দিনের মধ্যে এ জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।ইন্টারনেটে কানাডীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, আদালত আগামী তিন বছর নাইকোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও আদেশে বলা হয়েছে। তবে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন আগের মতোই গতকালও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল শনিবার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। কানাডার আদালতে মামলার ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না। নাইকোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তো বর্তমান ও সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছিল। তাতে তো তাঁরা দোষী বলে প্রমাণ হয় না।’ ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের পর, বাপেক্সের মাধ্যমে মোশাররফ হোসেনের জন্য তখনকার দামে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার সিগনাস (২০০৫ মডেল) গাড়ি পাঠায় নাইকো। গাড়িটি ২৩ মে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে গাড়িটি গ্রহণ করার সময় এ-সংক্রান্ত নাইকোর দাপ্তরিক নথিতে লেখা হয়, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বাসভবনে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাশে বর্ণিত জিনিসপত্র নাইকোর প্রতিনিধির নিকট হতে বুঝিয়া পাইলাম। গাড়ি ছাড়াও নথিতে পাশে বর্ণিত জিনিসপত্র হচ্ছে, গাড়ির অস্থায়ী ব্লু বুক,ফিটনেস সার্টিফিকেট, মূল বিমা সার্টিফিকেট, টুলবক্স, একটি অতিরিক্ত চাকা, একটি বিকল্প চাবি,অপারেটরস ম্যানুয়াল প্রভৃতি।এ ব্যাপারে ২০০৫ সালের ১৪ জুন প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন মোশাররফ হোসেন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। খবরটি প্রকাশের সময় প্রতিমন্ত্রী কানাডা ও আমেরিকা সফরে ছিলেন। ওই সফরের ব্যয়ভারও নাইকো বহন করেছে বলে কানাডীয় আদালতে বলা হয়েছে। কিন্তু তখন নাইকোর পক্ষ থেকে ঘুষ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলা হয়েছিল, যৌথ অংশীদার হিসেবে বাপেক্সকে গাড়িটি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রথম আলোর খবরের প্রতিবাদ পাঠিয়েছিল নাইকো। কানাডার গণমাধ্যমের কাছেও নাইকোর তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘুষ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।প্রতিমন্ত্রী সফর থেকে ১৮ জুন (২০০৫) শনিবার ভোরে দেশে ফিরে ওই দিন সকালে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঘুষ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায়ই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অবিলম্বে তা গৃহীতও হয়।ওই বছরই নাইকো গাড়িটি ফিরিয়ে নেয়। ফলে তখনই প্রমাণ হয়ে যায়, গাড়িটি বাপেক্সকে দেওয়া হয়নি। যৌথ অংশীদার হিসেবে বাপেক্সের ব্যবহারের জন্য দিলে সেটি আর ফিরিয়ে নেওয়া হতো না। তা ছাড়া টেংরাটিলা, ফেনী ও কামতা গ্যাসক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারি চুক্তির কোনো শর্তেই বাপেক্সকে নাইকোর গাড়ি দিতে হবে এমন শর্ত ছিল না।এ প্রেক্ষাপটে কানাডীয় আদালতের রায়ের পর সে দেশের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেমস কট্জ গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের এ রায়ের পর কোম্পানিগুলো এখন আর এমনটি ভাববে না যে, অপরাধ করেও পার পাওয়া যাবে।আদালতে নাইকোর পক্ষের আইনজীবী বলেন, নাইকোর মতো কোম্পানির পক্ষে প্রায় ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়া কোনো বড় বিষয় নয়। তবে আদালতের দণ্ডাদেশ কোম্পানিটির ভাবমূর্তির ওপর এক বড় আঘাত।এদিকে, টেংরাটিলা বিস্ফোরণের জন্য নাইকোর কাছে দাবি করা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আদালতে আছে। নাইকো যখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস কাঠামোর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে গড়িমসি করছিল, তখন বিগত সরকারের আমলে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার রায়ে আদালত সরকারকে বলেছিলেন, ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত নাইকোকে ফেনী ক্ষেত্র তোলা ও সরবরাহ করা গ্যাসের দাম পরিশোধ করা যাবে না।এরপর নাইকো ফেনী থেকে গ্যাস সরবরাহ করলেও দাম পরিশোধ করা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলে ক্ষতিপূরণ আদায় ও গ্যাস সরবরাহ শুরু করার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছার। কিন্তু তা হচ্ছিল না। এরপর নাইকো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে কাজ পেতে বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোকে ঘুষ দিয়েছি

বাংলাদেশে কাজ পেতে বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ঘুষ দিয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্রথম আলোয়, ২০০৮ সালের ২২ ডিসেম্বর। আর কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর কাছ থেকে কোটি টাকা দামের গাড়ি নিয়েছিলেন খালেদা সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। ২০০৫ সালের ১৪ জুন প্রথম আলো এ নিয়ে প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ওই প্রতিবেদন দুটি আজ আবার ছাপা হলো।
কাজ পেতে কোকোকে ঘুষ দেয় সিমেন্স
ফখরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ মামুন
খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো জার্মান বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স এজির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিমেন্স বাংলাদেশকে অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন। এ জন্য কোকোকে কমপক্ষে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুত টাকা দেওয়া হয়নি বলে কোকো অভিযোগ করলে অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ জমা পড়ে। সিঙ্গাপুরে কোকোর ব্যাংক হিসাবে যে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে এই টাকাও আছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটক প্রকল্পের কাজ পায় সিমেন্স ৫৩ লাখ ডলার ঘুষ দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালির তদন্ত এবং সিমেন্স এজির নিজস্ব তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মার্কিন আদালতে ঘুষ দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিমেন্স বাংলাদেশও। শাস্তিস্বরূপ তাদের পাঁচ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মার্কিন আদালত এই রায় দেন। আদালতের এই রায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট বা পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি না থাকার কারণে প্রথম দিকে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়া যায়নি। পরে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে সাহায্যের ব্যাপারে বিশ্বের অনেক দেশ এগিয়ে এসেছে। সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দুর্নীতিসংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা এ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকে বিভিন্ন মামলার নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন পেতে শুরু করে। টেলিটকের কাজ পাওয়ার জন্য সিমেন্স বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টির বিস্তারিত জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কাগজপত্র থেকে। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সিমেন্স এজির বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে সিমেন্স বাংলাদেশও রয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড জে লিওনের আদালতে শুনানি চলাকালে মূল প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এজি তাদের দোষ স্বীকার করে নেয় এবং ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার শোধ করতে সম্মত হয়। এর মধ্যে সিমেন্স বাংলাদেশের মতো সিমেন্স আর্জেন্টিনা ও সিমেন্স ভেনিজুয়েলাও আছে। এরা প্রত্যেকে পাঁচ লাখ ডলার করে জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনে বলা হয়েছে, বাইরের দেশে কাজ পেতে কোনো মার্কিন কোম্পানি ঘুষ দিতে পারবে না। সিমেন্স মূলত জার্মান কোম্পানি হলেও তা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত। সে কারণে সিমেন্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্য ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট-১৯৭৭আইনে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ মামলার বিবরণে টেলিটকের কাজ পেতে সিমেন্স কী ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বন করেছিল, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে পেশ করা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিবেদন, ইতালির সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে পাঠানো অনুরোধপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন প্রথম আলোর হাতে এসেছে।
২০০৮ সালে ইতালির সরকারি কৌঁসুলি প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধপত্র পাঠায়। এটি পাঠানো হয় বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালি দূতাবাসকে। সঙ্গে পাঠায় সিমেন্স নিযুক্ত মার্কিন ল ফার্ম দেবেভয়স অ্যান্ড প্লিমটনের তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার। ইতালি দূতাবাস ওই সংক্ষিপ্তসারসহ অনুরোধপত্রটি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মাসের মাঝামাঝি তা পাঠিয়ে দেয় আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন প্রথম আলোর কাছে সিমেন্স বাংলাদেশের দুর্নীতিবিষয়ক একটি চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। যাদের কিছু করার আছে, তাদের কাছেই তা পাঠানো হয়েছে।
তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।
জড়িত হলেন কোকো ও আমিনুল হক: সিমেন্স ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই টেলিটক মোবাইল ফোন প্রকল্পের কাজ পেতে চেষ্টা চালায়। এ জন্য ফজলে সেলিম ও জুলফিকার আলী নামের দুজনকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। ২০০১ সালের ২৭ মার্চ সিমেন্স ইতালির বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন। এতে বলা হয়, ফজলে সেলিম ও জুলফিকার আলীর বিভিন্ন প্রকল্পে ১৫ বছরের সফলতার ইতিহাস আছে। সার্বিকভাবে জটিল এ কাজে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই রাজনৈতিক দল, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে বিটিটিবির শীর্ষ থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এ কারণে তাঁরা পরামর্শক ফি সাধারণ কমিশনের তুলনায় বেশি চেয়েছেন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল সিমেন্স বাংলাদেশ ও সিমেন্স ইতালি ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে ব্যবসাসংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে তাঁদের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়। সে সময় তাঁদের সঙ্গে মৌখিকভাবে চুক্তি হয় যে প্রকল্পের অর্থের মধ্যে ১০ শতাংশ তাঁদের দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে মামলার নথিতে এসব তথ্য দেওয়া আছে।
বিটিটিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে টেলিটক প্রকল্পটির জন্য তিনবার খোলা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিনবারই অংশ নেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। প্রথমবার কারিগরি অযোগ্যতার কারণে বাদ পড়ে। দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলে তালিকায় নাম ওঠে সিমেন্সের। কিন্তু সদ্য ক্ষমতায় বসা তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার তা বাতিল করে দেয়। অর্থের পরিমাণ পরিবর্তন ও সরবরাহকারীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে তৃতীয় দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০০২ সালে। কিন্তু ২০০২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিমেন্স ওই দরপত্রে যথাযথভাবে সনদ দেখাতে না পারায় অকৃতকার্য হয়।
মার্কিন আদালতে মামলার নথিতে বলা হয়, পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সিমেন্স বাংলাদেশের তৎকালীন বাণিজ্য বিভাগের প্রধান খালেদ শামস সিমেন্স ইতালির একজন কর্মকর্তার কাছে ই-মেইলে জানান, ওই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ফজলে সেলিম ও জুলফিকারের কোনো ক্ষমতা নেই। এ ধরনের প্রকল্পের জন্য অবশ্যই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রণালয় এবং বিটিটিবির শীর্ষ ও কারিগরি ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে হবে। ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ভালো যোগাযোগ নেই।
এ সময় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে তৃতীয় পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। তিনি তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের বেয়াই।
২০০৩ সালের শেষ দিকে ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিটিটিবির প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে বাতিল দরপত্র সচল করতে সক্ষম হন বলে যুক্তরাষ্ট্রের মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রী এ সময় সিমেন্সের প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠাতে বলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ক্রয় কমিটি সিমেন্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এ সময় ব্যারিস্টার আমিনুল হক খালেদ শামসকে জানান, তিনি সিমেন্সকে একটি ভালো অবস্থানে আনার জন্য বিষয়টি দেশের শীর্ষস্তরে নিয়ে যেতে চান।
মার্কিন তদন্তে জানা যায়, ওই সময়ই আরাফাত রহমান কোকো নির্দিষ্ট কমিশনের (পারসেন্টেজ) বিপরীতে সিমেন্সকে ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য খালেদ শামসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর আর্থিক বিষয়টি সুরাহার জন্য তাঁরা যোগাযোগ করেন কোকোর প্রতিনিধি সাজিদ করিম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সাজিদ করিম দরপত্রে অংশ নেওয়া চীনা কোম্পানি হুয়াইয়ের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। সিমেন্সের সঙ্গে হুয়াইও টেলিটক প্রকল্পের আংশিক কাজ পায়।
সব ধরনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিমেন্সের দরপত্র পাস হয় এবং ২০০৪ সালের ১৪ জুন বিটিটিবির সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়। দরপত্র পাস হওয়ার খবরটি কোকোই প্রথম জানান খালেদ শামসকে।
মার্কিন আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের মাঝামাঝি কোকো ও খালেদ শামসের মধ্যে কথা হয়। এ সময় কোকো তাঁকে প্রতিশ্রুত টাকা দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খালেদ ও সিমেন্সের নতুন প্রধান নির্বাহী রুডলফ ক্লিংক কোকোর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করেন যে তাঁরা প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক।
২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে পরামর্শক জুলফিকার আলী সিঙ্গাপুরে ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে (ইউওবি) কোকোর ব্যাংক হিসাবে এক লাখ ৮০ হাজার ডলার পাঠিয়ে দেন।
সিঙ্গাপুরে কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সিমেন্সের টাকা: সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের এক নাগরিকের সহযোগিতায় কোকো ওই দেশে জেডএএসজেড ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন এবং ইউওবি ব্যাংকে হিসাব খোলেন। সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিকের সঙ্গে কোকোর পরিচয় করিয়ে দেন কিউসি শিপিংয়ের এক কর্মকর্তা। ব্যাংক হিসাবটি যৌথ হলেও তা থেকে অর্থ তোলার ক্ষমতা ছিল একমাত্র কোকোর। যুক্ত সই কিংবা এককভাবে চেকে কোকো সই করে অর্থ তুলতে পারতেন। সিঙ্গাপুরের ওই ব্যাংকে কোনো বিদেশি নাগরিকের হিসাব খোলার নিয়ম নেই। সে কারণেই ওই নাগরিকের সহযোগিতা নেন কোকো।
লিখিত ওই বক্তব্যে জানা যায়, সিমেন্সের পরামর্শক জুলফিকার আলী ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর কোকোর ওই হিসাবে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা (এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) জমা করেন। এর আগে ওই ব্যাংক হিসাবে চায়না হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০০৫ সালের ৬ মে ও ৩১ মে যথাক্রমে নয় লাখ ২০ হাজার ৯৮৬ এবং আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ সিঙ্গাপুরি ডলার জমা করে।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনদুদক জানায়, সিঙ্গাপুর সরকার সে দেশের ব্যাংকে জমা কোকোর ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোকো সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিককে জেডএএসজেডের নামে থাকা হিসাব বন্ধ করে ওই টাকা অন্য একটি ব্যাংকে জমা দিতে নির্দেশ দেন। ওই সময় ক্রেডিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাট কমার্শিয়াল (সিআইসি) নামে ফরাসি ব্যাংকের সিঙ্গাপুর শাখায় কোকোর টাকা স্থানান্তর করেন তিনি। তবে এবার ওই হিসাব কোকোর নামে নয়, ওই নাগরিকের নামেই করা হয়। এ সময় ২০ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৩৮ সিঙ্গাপুরি ডলার স্থানান্তর করা হয়। তবে গত বছরের নভেম্বরে তিনি ওই অর্থ আবারও আগের ব্যাংকে স্থানান্তর করেন বলে জানা যায়।
তবে সিঙ্গাপুরে জেডএএসজেড নামে কোম্পানি ছাড়াও ফারহিল কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে কোকোর আরেকটি কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে।
২০০৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইউওবির অন্য একটি শাখায় সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিককে হিসাব খুলতে নির্দেশ দেন কোকো। তবে এবার সিঙ্গাপুরের ওই ব্যক্তির নামেই হিসাব খোলা হয়। ২০০৬ সালের ১৭ ও ১৯ জানুয়ারি হিসাবটিতে যথাক্রমে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৮ ও এক লাখ নয় হাজার ৯৮৮ মার্কিন ডলার জমা পড়ে। হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুবাই থেকে ওই টাকা জমা দেন। এরপর ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কোকোর নির্দেশে সিআইসি ব্যাংকে ওই টাকা স্থানান্তর করেন।
সিমেন্সের ব্যয় ৩৭ কোটি টাকা: ২০০১ সালের মে থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত টেলিটক প্রকল্পের কাজ পেতে সিমেন্স অন্তত ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার বা ৩৭ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করে। এ টাকা তিন পরামর্শক সাজিদ সেলিম, জুলফিকার আলী ও মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয়। তাঁদের হাত ঘুরে টাকা চলে যায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিটিটিবির কর্মকর্তাদের কাছে। কিছু টাকা হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় বিটিটিবির কর্মকর্তা বা তাঁদের আত্মীয়দের হাতে।
২০০৩ সালের এপ্রিলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নাদির শাহ কোরেশীর কাছে ১০ হাজার ডলার, বিটিটিবির অপর এক কর্মকর্তার মেয়ের কাছে পাঁচ হাজার ডলার এবং মন্ত্রী আমিনুল হকের ভাগনের কাছে এক হাজার ডলার তুলে দেয় সিমেন্স। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলার নথিতে এ বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সিমেন্স তৃতীয় দরপত্রে সনদসংক্রান্ত ত্রুটির জন্য যে অকৃতকার্য হয়, তার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়া হয় কোরেশীকে। ২০০২-এর শেষপ্রান্তে কিংবা পরের বছরের শুরুতে বিটিটিবির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও বর্তমানে টেলিটকে কর্মরত ইউসুফ নিয়াজকে ১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে মার্কিন আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে কোরেশীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন কমিটির আরেক সদস্যকে সিমেন্স প্রকৌশলীহিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই প্রকৌশলীর মেয়ের কাছে পাঁচ হাজার ডলার তুলে দেওয়া হয়।
তৎকালীন বিটিটিবির পরিচালক (ক্রয়) নাদির শাহ কোরেশী ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সিমেন্স থেকে এক কানাকড়িও নেননি তিনি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ইউসুফ নিয়াজও অর্থ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।
বিটিটিবির মোবাইল প্রকল্পের কাজ পাওয়ার পর সিমেন্স ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ তিন পরামর্শক ফজলে সেলিম, জুলফিকার আলী ও মিজানুর রহমানের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে সিমেন্সের ব্যাংক হিসাব থেকে ৮০ হাজার ডলার করে পাঠায়। এর আগে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে মিজানুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং তাঁর হংকংয়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়। (সংক্ষেপিত)
আদালতে ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার কানাডীয় ডলার জরিমানা
মোশাররফকে ঘুষ দিয়ে কানাডায় দণ্ডিত নাইকো
সাবেক বিএনপি সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে ২০০৫ সালে একটি দামি গাড়ি ও ভ্রমণব্যয়ের পাঁচ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ায় স্বদেশে দণ্ডিত হয়েছে কানাডীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।
বাণিজ্যিক স্বার্থে বিদেশে ঘুষ দেওয়া প্রতিরোধসংক্রান্ত কানাডার আইনে সে দেশের একটি আদালতে ২০০৯ সাল থেকে এ মামলা চলছিল। নাইকো দোষ স্বীকার করায় গত শুক্রবার ওই আদালত দণ্ড হিসেবে ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার কানাডীয় ডলার (৯৭ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৪ মার্কিন ডলার) জরিমানার আদেশ দেন। ৩০ দিনের মধ্যে এ জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
ইন্টারনেটে কানাডীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, আদালত আগামী তিন বছর নাইকোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও আদেশে বলা হয়েছে। তবে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন আগের মতোই গতকালও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল শনিবার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। কানাডার আদালতে মামলার ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না। নাইকোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তো বর্তমান ও সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছিল। তাতে তো তাঁরা দোষী বলে প্রমাণ হয় না।
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের পর, বাপেক্সের মাধ্যমে মোশাররফ হোসেনের জন্য তখনকার দামে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার সিগনাস (২০০৫ মডেল) গাড়ি পাঠায় নাইকো। গাড়িটি ২৩ মে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে গাড়িটি গ্রহণ করার সময় এ-সংক্রান্ত নাইকোর দাপ্তরিক নথিতে লেখা হয়, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বাসভবনে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাশে বর্ণিত জিনিসপত্র নাইকোর প্রতিনিধির নিকট হতে বুঝিয়া পাইলাম। গাড়ি ছাড়াও নথিতে পাশে বর্ণিত জিনিসপত্র হচ্ছে, গাড়ির অস্থায়ী ব্লু বুক, ফিটনেস সার্টিফিকেট, মূল বিমা সার্টিফিকেট, টুলবক্স, একটি অতিরিক্ত চাকা, একটি বিকল্প চাবি, অপারেটরস ম্যানুয়াল প্রভৃতি।
এ ব্যাপারে ২০০৫ সালের ১৪ জুন প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন মোশাররফ হোসেন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। খবরটি প্রকাশের সময় প্রতিমন্ত্রী কানাডা ও আমেরিকা সফরে ছিলেন। ওই সফরের ব্যয়ভারও নাইকো বহন করেছে বলে কানাডীয় আদালতে বলা হয়েছে। কিন্তু তখন নাইকোর পক্ষ থেকে ঘুষ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলা হয়েছিল, যৌথ অংশীদার হিসেবে বাপেক্সকে গাড়িটি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রথম আলোর খবরের প্রতিবাদ পাঠিয়েছিল নাইকো। কানাডার গণমাধ্যমের কাছেও নাইকোর তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘুষ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী সফর থেকে ১৮ জুন (২০০৫) শনিবার ভোরে দেশে ফিরে ওই দিন সকালে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঘুষ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায়ই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অবিলম্বে তা গৃহীতও হয়।
ওই বছরই নাইকো গাড়িটি ফিরিয়ে নেয়। ফলে তখনই প্রমাণ হয়ে যায়, গাড়িটি বাপেক্সকে দেওয়া হয়নি। যৌথ অংশীদার হিসেবে বাপেক্সের ব্যবহারের জন্য দিলে সেটি আর ফিরিয়ে নেওয়া হতো না। তা ছাড়া টেংরাটিলা, ফেনী ও কামতা গ্যাসক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারি চুক্তির কোনো শর্তেই বাপেক্সকে নাইকোর গাড়ি দিতে হবে এমন শর্ত ছিল না।
এ প্রেক্ষাপটে কানাডীয় আদালতের রায়ের পর সে দেশের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেমস কট্জ গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের এ রায়ের পর কোম্পানিগুলো এখন আর এমনটি ভাববে না যে, অপরাধ করেও পার পাওয়া যাবে।
আদালতে নাইকোর পক্ষের আইনজীবী বলেন, নাইকোর মতো কোম্পানির পক্ষে প্রায় ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়া কোনো বড় বিষয় নয়। তবে আদালতের দণ্ডাদেশ কোম্পানিটির ভাবমূর্তির ওপর এক বড় আঘাত।
এদিকে, টেংরাটিলা বিস্ফোরণের জন্য নাইকোর কাছে দাবি করা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আদালতে আছে। নাইকো যখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস কাঠামোর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে গড়িমসি করছিল, তখন বিগত সরকারের আমলে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার রায়ে আদালত সরকারকে বলেছিলেন, ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত নাইকোকে ফেনী ক্ষেত্র তোলা ও সরবরাহ করা গ্যাসের দাম পরিশোধ করা যাবে না।
এরপর নাইকো ফেনী থেকে গ্যাস সরবরাহ করলেও দাম পরিশোধ করা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলে ক্ষতিপূরণ আদায় ও গ্যাস সরবরাহ শুরু করার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছার। কিন্তু তা হচ্ছিল না। এরপর নাইকো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

Tuesday, October 26, 2010

বিএনপির আইনের শাসনের বুলি হলো বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার

বিএনপির আইনের শাসনের বুলি হলো বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার
মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বিএনপি, দলটির নেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া এবং অন্য নেত্রী-নেতাদের আইনের শাসনের বুলি হলো- বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার। কথায় কথায় তারা আওয়ামী লীগকে আইনের শাসন 'অমান্যকারী' গণতন্ত্র 'হরণকারী' আরও কত কত অসুস্থ শব্দ ব্যবহার করে দলটিকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে চলেছে গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু সময়ের কি প্রতিশোধ, আজ তারাই আইনের শাসন মানছে না। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার দায়ের করা মামলায়ই হাইকোর্ট রায় দিল তাকে এক মাসের মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। তখনই শুরু হলো মাতম_ হায় তাল গাছ আমার, হায় তালগাছ আমার।
কেন এত মাতম? বস্তুত ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি হাত ছাড়া হয়ে গেলে তথাকথিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দলটির বহুদলীয় গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের ওপর থেকে যে মিলিটারি গিলাপটি সরে যাবে। নইলে সরকারের দেয়া গুলশানে প্রায় ৭০/৮০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি থাকতে কেন তিনি ক্যান্টনমেন্টে বাড়ি ছাড়তে চাইছেন না? অথচ এই ক্যান্টনমেন্টে বসবাসের কারণে তাঁর দলীয় নেতা-কমর্ী-সমর্থকরা তার সাথে দেখা করতে পারেন না। কাজেই এ বাড়ি ছেড়ে গুলশানের বাড়িতে গেলে নেতা-কমর্ীরা তার সাথে সহজেই দেখা করতে পারবেন। কোন বাধার সম্মুখীন হবেন না। আমি নিজেও মনে করি বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাড়িতে এলে তিনি আর জনবিচ্ছিন্ন ক্যান্টনমেন্টবাসিনী থাকবেন না বরং জনগণের কাছাকাছি চলে আসবেন। সীমাহীন সম্পদের লোভ থাকলে ভিন্ন কথা। অবশ্য দুনিয়াতেও আলস্নাহ পাক-এর বিচার আছে। যাকে আমরা প্রকৃতির প্রতিশোধ মনে করি। মনে পড়ে বাংলাদেশ যখন ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস-এর জন্য আবেদন করেছিল তখন যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিল, বলেছিল 'বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের অযোগ্য, আমাদের চরমভাবে অবজ্ঞা করেছিল, সেই নিউজিল্যান্ডেরই স্ট্যাম্পগুলো একে একে উড়ে গেল টাইগারদের অপ্রতিরোধ্য বোলিং-এ। দাম্ভিক নিউজিল্যান্ডিয়ানরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখল শুধু। কেবল যে স্ট্যাম্পগুলো উড়ে গেল তা নয়, সিরিজ জয় এল টাইগারদের ঘরে তাও নয়, একেবারে যাকে বলে লাইফবয় সাবান দিয়ে হোয়াইট ওয়াশ করে বুঝিয়ে দিল, দাদারা আমাদেরও দিন ছিল, কেবল সময়ের অপেক্ষা এবং সেই সময়ও এমনভাবে এল যে, একেবারে চুনকাম করে পলিশ করে দিল, দাদারা ভাবতেও পারল না। এরই নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এরই নাম প্রকৃতির প্রতিশোধ। মনে পড়ে ২০০১ সালের অক্টোবর নির্বাচনের পর সরকার গঠনের শপথ গ্রহণেরও অপেক্ষা করেনি। বিএনপি-জামায়াতীরা যেই দেখল জিতে গেছে অমনি ঝাঁপিয়ে পড়ল আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ী এবং সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের জনগণের ওপর। মানুষের বাড়ি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে লুটপাট, মারধর, হামলা-মামলা, এমনকি নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ করা শুরম্ন করল। সেই বিভীষিকাময় কালো দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও শিউরে উঠতে হয়। কে না জানে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করেও যখন দেখল দুই কন্যা বেঁচে আছেন তখন হত্যাকারীরা স্বসত্মি পেল না। ৬ বছর পর দেশে ফিরে এলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য বার বার আঘাত হেনেছে। গুলি, বোমা, এমনকি ধানম-ি ৫ নং সড়কের বাসভবনে পর্যনত্ম গুলি ছুড়েছে। তাই ১৯৯৬-২০০১-এর আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার জীবনের নিরাপত্তা জন্য গণভবনটি বসবাসের জন্য দেন। একই সঙ্গে শেখ রেহনাকেও ধানম-িতে একটি বাড়ি বরাদ্দ দেন। ২০০১-এর নির্বাচনে জেতার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জন্য বরাদ্দকৃত বাসবভন দু'টির বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। শেখ রেহানা তো তখনও বাড়িতে ওঠেনইনি। শেখ হাসিনাও সঙ্গে সঙ্গে গণভবন ছেড়ে স্বামীর বাড়ি ধানম-ি ৫ নং সড়কে চলে যান। সেদিন আমরা যারা দূর থেকে শেখ হাসিনার গণভবন ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছি অনেকের মুখেই কোন কথা ছিল না, চোখে ছিল জল। এভাবে অপমান সহ্য করে শেখ হাসিনাকেও গণভবন ছাড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ বলছেন শেখ হাসিনা প্রতিশোধ নিচ্ছেন! না, শেখ হাসিনা নিচ্ছেন না, এ প্রকৃতির প্রতিশোধ। একজন নারী যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার বা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী। সেই সুবাদে তাঁকে নগদ ১০ লাখ টাকা, জ্বালানি, চালকসহ গাড়ি, দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ মাসে মাসে টাকা, অর্থাৎ সব কিছু ফ্রি করে দেয়ার পরও প্রথমে থাকার জন্য ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি দেয়া হয় সম্ভবত ১০১ টাকার বিনিময়ে। পরে ক্যান্টনমেন্টে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার শর্তে গুলশানে এক অথবা দেড় বিঘার ওপর নির্মিত বাড়ি দেয়া হয়। এই বাড়ি বেগম জিয়ার কাছে হসত্মানত্মরের আগে রীতিমতো খোলনলচে পাল্টে সুসজ্জিত করে তবেই হসত্মানত্মর করা হয়। খাট, পালং থেকে শুরম্ন করে চা-এর চামচ পর্যনত্ম সবকিছু দিয়ে তারপর হসত্মানত্মর করা হয় এবং এতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তা দিয়ে একটি বাড়ি বানানো যেত। কিন্তু বেগম জিয়া এবার দু'টি বাড়িই দখলে নেন। একটা কথা বলা দরকার_ শুনেছি ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি না কি এক শত ৬৫ কাঠা অর্থাৎ সোয়া ৮ বিঘা। এদিক থেকে গুলশানের বাড়িটির বর্তমান বাজার দর ৭০/৮০ কোটি টাকা এবং ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির দাম ৩০০-৪০০ কোটি টাকাও হতে পারে। বেগম জিয়ার দুটি বাড়ি দখলের ব্যাপারে পুরনো বহুল কথিত একটি গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। সেকালে অর্থাৎ গত শতাব্দীর শেষার্ধ পর্যনত্ম বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু মানুষকে দেখা যেত যারা বড় কাছারিঅলা বাড়ি দেখলে (সন্ধ্যার আগে আগে) ঢুকে পড়ত এবং মুসাফির পরিচয় দিয়ে রাত্রিযাপনের ইচ্ছে প্রকাশ করত। এরা সাধারণত নোয়াখালী অঞ্চল থেকে বেশি আসত। একবার এক গেরসত্মবাড়িতে এসে একজন মুসাফির থাকার অনুমতি পেল। রাতের খাবারের সময় বাড়ির কর্তা এসে জানতে চাইলেন, আপনি পরোটা-মাংস খাবেন, না ভাত-মাছ_ কোন্টা। মুসাফির একটু ভেবে বললেন, দুইটাই, আগে পরোটা-মাংস খাব পরে ভাত-মাছ। বেগম জিয়ার জন্মও শুনেছি ঐ অঞ্চলেই এবং সেই সুবাদে তিনি গল্পটা নিশ্চয়ই শুনেছিলেন। প্রশ্ন হলো জিয়া মুক্তিযোদ্ধা (সেক্টর কমান্ডার) ছিলেন বা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সে জন্য তাঁর বিধবা স্ত্রীকে ও এতিম সনত্মানদের থাকার জন্য বাড়ি দেয়া হলো। তাদের ভাষায় জিয়া না কি স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন, আমরা বলি এটি অর্ধসত্য, পুরো সত্য হলো জিয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি অন্যতম ঘোষণা পাঠক। সে যা হোক এসব অবদানের জন্য তাঁর বিধবা স্ত্রী ও সনত্মানদের এত কিছু দেয়া হলো। আমরা কি প্রশ্ন করতে পারি শেখ মুজিব ছিলেন বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সনত্মান। বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা, আমাদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নেতা, পথপ্রদর্শক, বাঙালীর জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু, তাঁকে হত্যার পর পরিবারের একমাত্র জীবিত এতিম দুই কন্যার জন্য কি করা হয়েছিল? বঙ্গবন্ধুর বাড়ি দু'টিই (ধানম-ি ও টুঙ্গিপাড়া) দু'বোন জনগণের উদ্দেশ্যে দান করেছেন। তাঁরা দু' বোন বিদেশে ছিলেন বলে বেঁচে গেছেন। বরং জিয়া তাদের দেশে আসতে দেয়নি। বারে বারে শেখ হাসিনাকে হত্যা করারও ষড়যন্ত্র হয়।
বঙ্গবন্ধু তো রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টও ছিলেন। সে বিষয়টিও তো বিবেচনায় আনা হয়নি। খন্দকার দেলোয়ার কিংবা মীর্জা ফখরম্নল কি বললেন না বললেন সে সব তত গুরম্নত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরম্নল ইসলাম খান (সিপিবির সভাপতি মনজুরম্নল আহসান খানের ভাই) যখন বলেন, ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির সাথে আবেগ জড়িত আছে। এ আবেগের অর্থ আমরা বুঝতে পারলাম না। নজরম্নল ইসলাম খান যদি একটু ব্যাখা করে বলেন তাহলে ভাল হয়।
যদি বলা হয় খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে বাড়ি দু'টি দেয়া হয়েছে। এখানেও প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল দু'জনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশ আর্মির কমিশন রেঙ্ক-এ যোগ দেন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (তখন) কর্নেল এমএজি ওসমানীর এডিসি ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ আর্মির ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়ে অসমাপ্ত শিক্ষা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে বি.এ. অনার্স ও এম.এ. কোর্স) সমাপ্ত করেন এবং শিল্প-সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও রাজনীতির অঙ্গনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। আর শেখ জামালও একইভাবে বাংলাদেশ আর্মির কমিশনও প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সেন্ডহাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ ও কমিশন নিয়ে আর্মিতে ফিরে যান। তাঁকেও হত্যা করা হয়েছিল সস্ত্রীক। এখানে কি আবেগের জায়গা নেই। তাদের দু'বোন তো জীবিত ছিলেন। ধরে নিলাম ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও লেফ্টেন্যান্ট শেখ জামালের বিয়ে হয়েছিল এক মাস হয় এবং এরই মধ্যে তাঁদেরও হত্যা করা হয়। তবে কর্নেল তাহের, জেনারেল খালেদ মোশাররফ, জেনারেল মনজুর, কর্নেল হুদা, কর্নেল হায়দারদের হত্যার পর তাদের স্ত্রী সনত্মানরা বেঁচে আছেন। তাদের ব্যাপারে কি আবেগ কাজ করে না প্রিয় নজরম্নল ইসলাম খান ভাই?
তবে হঁ্যা এবার কিন্তু ভাল ধরা খেয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ যদি হাইকোর্টের মামলাটি করত বা আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে বাড়ি ছাড়তে বলতেন তাহলে বিএনপি কিছুটা হলেও রাজনৈতিক ফায়দা পেত। কিন্তু এক্ষেত্রে সে সুযোগও নেই। বেগম জিয়াই হাইকোর্টে মামলাটি করেছেন বাড়ি রক্ষার জন্য। হাইকোর্ট তার মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে এবং তাঁকে এক মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে বেগম জিয়াকে হয় হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে আপীল করতে হবে আপীল বিভাগে নয়ত হাইকোর্ট তথা বিচার বিভাগের বিরম্নদ্ধে রাজপথে নামতে হবে। কিন্তু রাজপথে নামা যে সম্ভব নয় এটা বুঝতে পেরে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ডুব মেরেছেন। তাঁর কোন কথা শোনা যাচ্ছে না। না-কি আকীদা বদলানোর চেষ্টায় আছেন কে জানে? মওদুদ আহমেদের কথাইবা বলব কেন, টিএইচ খানও তেমন কোন মনত্মব্য করছেন না, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীও কৌশল অবলম্বন করে আর্মির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মাঠে নেমেছেন খালেদা জিয়ার নব্য আইন উপদেষ্টা সুপ্রীমকোর্ট বার সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনিও খানিক পাশ কাটিয়ে বলেছেন আদালতের বাইরে বিষয়টি মীমাংসা হতে পারে। তার বক্তব্যে আন্দোলনের ব্যাপার নেই, আছে সালিশীর ব্যাপার। আমার বোঝাটা যদি ঠিক হয় তবে তার কথার অর্থ হলো সরকারী-বিরোধী দল বসে বিষয়টি সুরাহা করতে পারে। অর্থাৎ গ্রাম্য সালিশ। যা টাউটরা পরিচালনা করে এবং কখনও কখনও পয়সার বিনিময়ে ফতোয়া দেয়, কখনও দু'পক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে বছরের পর বছর গ্রাম্য কাজিয়া জিইয়ে রাখে। খন্দকার মাহবুব সাহেব কি তাই চান? সালিশ হলে বছরের পর বছর জিইয়ে রাখার একটা সুযোগ আসবে এবং বারের সভাপতি হিসেবে তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন, হয়ত তিনি তাই ভাবছেন। গ্রাম্য সালিশের মতো দু'পক্ষের কাছ থেকে টাকা খাবেন, এ কথা আমি বলছি না।
খন্দকার মাহবুব সাহেব আরও যে কথা বলেছেন তা হলো 'আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকার আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তার এ বক্তব্য আদালত অবমাননা কি-না সে আইনজীবী হিসেবে তিনিই বলতে পারেন। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে বুঝি কোন দল বা সরকার যখন আদালতকে প্রভাবিত করতে পারে বা আদালতকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে পারে, তখন সে আদালত কি আদালত থাকে? আমরা জানি আদালত কেবল আইন বা রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী চলে, কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়, কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছায়ও আদালত চলে না। তারপরও খন্দকার মাহবুবের মতো একজন প্রবীণ আইনজীবী কিভাবে এমন বালখিল্য কথা বলেন বুঝি না।
খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলেছেন, "খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির বিষয়টি অত্যনত্ম স্পর্শকাতর। এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি।" তাহলে বাংলাদেশের সব বাড়িই তো কারও না কারও স্মৃতিবিজড়িত। তাহলে কি তাদের সবার মৃতু্যর পর তাদের বিধবা স্ত্রী বা এতিম সনত্মানদের নামে সে সব বাড়ি লিখে দিতে হবে? তাহলে তো সরকারী কাজকর্মের জন্য আর কোন বাড়িই অবশিষ্ট থাকবে না।
বরং আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে সম্পৃক্ততা, হত্যাকারীদের দায়-মুক্তি দান ও বিদেশী দূতাবাসে বড় বড় চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা, দেশে সামরিক শাসন স্থায়ী করা, গোপন বিচারে কর্নেল তাহেরের হত্যা, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে থাকতে দেয়া, জামায়াতের মতো ঘৃণ্য-জঘন্য যুদ্ধাপরাধী দলকে রাজনীতি করার অধিকার দান এবং সর্বোপরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধের ধারা থেকে পাকি সামপ্রদায়িক ধারায় নিয়ে যাওয়া, এসব রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধের জন্য জিয়ার মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। দেশের আজকের যে দুর্ভোগ, আশানুরূপ অগ্রগতি সাধনে ব্যর্থতা এবং সবার ওপরে একটি দেশপ্রেমিক প্রশাসন গড়ে তুলতে না পারা_ এসব কিছুর জন্য দায়ী ঐ জিয়াউর রহমান। এই ভদ্রলোকই গড়হবু রং হড় ঢ়ৎড়নষবস বলে দেশের সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে ঘুষ-দুনর্ীতিকে উৎসাহিত করেছেন। এই ভদ্রলোকই মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে অর্থ, অস্ত্র, পানীয় তুলে দিয়ে (হিজবুল বাহার) ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ ধারার চর্চা করার পথ রম্নদ্ধ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত সামরিক শাসকরা এমনই হয়। আইয়ুব-ইয়াহিয়া বা জিয়া-এরশাদকে দেখেছি। কারও সাথে কারও কোন গরমিল দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পাকিপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদর-আলশামস বা ভাসানী ন্যাপের যে অংশটি স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখতে না পারার কারণে না ঘরকা না ঘাটকা ছিল, জিয়াকে ঘিরে তারা যে এক অশুভ রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টি করার সুযোগ পেল এবং পরবতর্ীতে জিয়া হত্যার পর আরও যারা জিয়ার সেই মিলিটারি ইমেজের চাদর জড়িয়ে খালেদা জিয়াকে ঘিরে সেই বলয় রক্ষা করছে, জিয়ার মরণোত্তর বিচার হলে তাদের সেই অশুভ বলয়ও ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ তার মূল ধারায় অগ্রসর হতে থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ পথেই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, এগিয়ে চলেছেন।
একজন মানুষের কত সম্পদ চাই, কত জমি চাই? তাঁকে তো গুলশানে একটা বাড়ি দেয়া হয়েছে। সেটিও ছোট নয়। তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান তো শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে চলছে এসব মহাজনী বাণী। কারও কারও মতে হাজার কোটি টাকাও হতে পারে। স্ত্রী-সনত্মানসহ দুই ভাইয়ের লন্ডন ব্যাঙ্ককে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান অথবা চিকিৎসার জন্য থাকার ব্যাপারটা চিনত্মা করলেই তো অনুমান করা যায়।
বস্তুত একটি জনগোষ্ঠী যখন মূলধারা থেকে বিচু্যত হয় তখন তার আর মূল্যবোধ বলে কিছু থাকে না। আমরা কেবল খাই খাই চাই চাই-এর বাইরে কিছু ভাবি না। মহর্ষি টলসত্ময়ের সেই বিখ্যাত ঐড় িসঁপয ষধহফ ফড়বং ধ সধহ ৎবয়ঁরৎব গল্পটির কথা মনে পড়ে গেল। এক লোক কেবল জমি চাচ্ছে। তখন তাকে একটি ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে বলা হলো, এ ঘোড়া সূর্যাসত্ম পর্যনত্ম যতখানি ভূমি অতিক্রম করতে পারবে সবটাই তোমার। কথা মতো লোকটির ঘোড়া দৌড়োতে লাগল, দৌড়োতে দৌড়োতে সূর্যাসত্মের মুহূর্তে লোকটি ঘোড়া থেকে পড়ে গেল এবং মারা গেল। এবং তখন তার প্রয়োজন পড়ল মাত্র সাড়ে তিন হাত জমিন।
ঢাকা-২১ অক্টোবর, ২০১০
লেখক_ ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক

Sunday, July 11, 2010

VEIWS OF KHALEDA REGARDING WAR CRIMINAL


কয়েক দিন আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আলাপ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।’ ১৯ মে পল্টন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী নয়। তবে সেই বিচারের নামে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হলে তাঁরা মেনে নেবেন না।’ খুবই ন্যায়সংগত ও যুক্তিপূর্ণ কথা। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সব বিচার-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের মতো স্পর্শকাতর একটি বিচার-প্রক্রিয়ায় কোনো গলদ বা ফাঁকফোকর থাকা উচিত নয়। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপির সহযোগিতা চাইলেন, তখন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বললেন, একদিকে সহযোগিতা চাইবেন, অন্যদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাবেন, এ স্ববিরোধী নীতি চলতে পারে না। কেবল তিন শীর্ষস্থানীয় নেতা নন, চিহ্নিত কয়েকজন বাদে গত ১৯ মাসে বিএনপির প্রায় সব স্তরের নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা-বিবৃতি ঘাঁটলে দেখা যাবে, সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও কেউ যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেননি।কিন্তু ৫ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তৃতায় সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধীদেরও তখনকার সরকার ক্ষমা করে দিয়েছিল। আজ প্রায় চার দশক পর স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের কথা বলে জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সরকারের দুমুখো নীতির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে (প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০১০)।’আমরা ধন্দে পড়ে যাই। এ কার কণ্ঠ শুনছি—মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি-প্রধানের কণ্ঠ, না স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী কোনো দলনেত্রীর?বক্তব্যটি হঠাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে, তা ভাবার কারণ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, সংক্ষেপে তার বিবরণও দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর কথায়, জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিধ্বনি ছিল না, ছিল জামায়াতের সুর। খালেদা জিয়ার প্রথম কথা হলো, আওয়ামী লীগ ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের’ বিচার করেনি। স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের নামে এখন তারা জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। গুটিকয়েক যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে দেশে হানাহানি দেখা দেবে না। বরং তাদের বিচার না হওয়ায় জাতিকে কলঙ্কের বোঝা বইতে হচ্ছে।তাঁর দ্বিতীয় কথা হলো, এই বিচার রুখে দিতে হবে।কী মারাত্মক কথা! বিচার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা নয়। বিচার রুখে দিতে হবে!বিএনপি নিজেকে মধ্যপন্থী, উদার গণতান্ত্রিক ও সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দল বলে দাবি করে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও নাকি বিএনপি ছাড়া অন্য কারও হাতে নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ, জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি নিশ্চয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিএনপি নেত্রী কোথায় পেলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করলে জাতি বিভক্ত হবে? হানাহানি সৃষ্টি হবে? কোন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় জাতি বিভক্ত হয়েছে? গণহত্যা ও বর্বরতার দায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত নাৎসি বাহিনীর বিচার হয়েছে। বসনিয়া ও কাম্পুচিয়ার যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। তাতে সেসব দেশ বিভক্ত বা দুর্বল হয়নি। গ্লানি ও পাপমুক্ত হয়েছে।খালেদা জিয়া ‘প্রায় চার দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নটি যৌক্তিক, কিন্তু উদ্দেশ্য সৎ নয়। আমরাও মনে করি, মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত দিনেও তাদের বিচার করতে না পারা আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিচার না করে ভুল করেছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভুল সংশোধন করল না কেন? স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপিই তো সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল। নিশ্চয়ই আবারও তারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখে।আমরা অতীত নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আইন ও ন্যায়বিচারের কথা বলতে চাই। বিএনপি নেত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, স্বাধীনতার চার দশক পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিতে আইনগত বাধা আছে কি? নেই। তাহলে বিএনপির গা জ্বালা করার কারণটা কী? তাদের দলে কতজন যুদ্ধাপরাধী আছে? মাত্র একজনের (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) অপরাধ তদন্ত করায় খালেদা জিয়া এভাবে খেপে গেলেন কেন? না এর পেছনে আরও কারণ আছে? ৮ অক্টোবরের কাগজে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শোয়েব আহমদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী তাঁকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। সরকার সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ (প্রথম আলো, ৮ অক্টোবর, ২০১০)।যুদ্ধাপরাধের বিচারে খালেদা জিয়া বা বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে ১০ ট্রাক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। সে দিন মতিউর রহমান নিজামী শিল্পসচিবকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কথা বলে অভয় দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে আজ কি খালেদা জিয়া নিজামী সাহেবদের এই বলে অভয় দিচ্ছেন যে ‘আমরা আছি তোমার পাশে’?খালেদা জিয়া প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে সহযোগীদের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে ‘প্রকৃত’ ও ‘অপ্রকৃত’ বলে কিছু নেই। যারা একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত ছিল, তারাই যুদ্ধাপরাধী। খালেদা জিয়া ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী’ বলতে নিশ্চয়ই দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের বুঝিয়েছেন। আমরা তাদের বিচার করতে পারিনি, সেটি আমাদের ব্যর্থতা। তাই বলে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না কেন? খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগী’ বলে তাদের অপরাধ লাঘব করতে চাইছেন। সরকার এখন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ বিচার করছে না, তাদের জন্য বিশেষ আদালতও গঠন করা হয়নি। বিচার হচ্ছে একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে যারা জড়িত ছিল, তাদের। সে সময় জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, পিডিপি, কৃষক প্রজা পার্টি এবং অন্যান্য দলের হাজার হাজার নেতা ও কর্মী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে তাঁদের বিচার শুরু হয়েছিল। অনেকের জেল-জরিমানা হয়েছিল। অনেকে আবার ক্ষমতাসীনদের নানা রকম এনাম দিয়ে ছাড়াও পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিল, এ কথা ঠিক। সেই ক্ষমার মধ্যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে কেন ক্ষমাপ্রাপ্তদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করল? দেশের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানাল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে যদি সগিরা গুনাহ করে থাকে, বিএনপি করেছে কবিরাহ গুনাহ।
এরপর খালেদা জিয়া যে ভয়ংকর কথাটি বলেছেন, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিচার রুখে দিতে হবে’। তিনি কীভাবে ভাবলেন, জনগণ তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেবে?২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা কি তাঁর মনে আছে? সেই নির্বাচনে তিনি দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও স্লোগান দিয়েছিলেন। ভোটাররা আমলে নেননি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ছিল না। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল। জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এখন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।এ কথা ঠিক, গত ২০ মাসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অনেক অঙ্গীকারই রাখতে পারেনি। সর্বত্র দলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাজি চলছে। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত এর প্রতিবাদ করা। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করছে কেন? আগে বিদেশি জুজুর ভয় দেখাত। কিন্তু যখন দেখা গেল কোনো দেশই তাদের কথা আমলে নিচ্ছে না তখন হানাহানির ভয় দেখাচ্ছে। এটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের কাজ নয়।বিএনপি চেয়ারপারসন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশবাসী দূরে থাক, এ কাজে তিনি দলের কর্মীদেরও পাবেন না। বিএনপিতে হাতে গোনা কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী থাকলেও সবাই তাদের সমর্থক নয়। দলের নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চান। আমরা স্মরণ করতে পারি, ১৯৯২ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের খামোশ করে দিয়েছিলেন। এখনো কি জামায়াতকে রক্ষা করতে খালেদা জিয়া দলীয় কর্মীদের খামোশ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন?যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যে দলে এখনো বহু মুক্তিযোদ্ধা আছেন, সেই দলটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা কীভাবে করে? তাহলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তো কোনো পার্থক্য থাকে না।খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করলেও রুখে দিতে বলেননি, কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার রুখে দিতে বলেছেন। কেন রুখে দিতে হবে? তাতে জামায়াতের নেতারা, অর্থাৎ তাঁর দলের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা খুশি হবেন বলে? এ আহ্বানের একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর মিশনে নেমেছেন তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালনকারী খালেদা জিয়া। কেন তাদের বাঁচাতে হবে? মনে রাখবেন, জামায়াতের মিত্রতা রক্ষার বিনিময় মূল্য অনেক বেশি। বিএনপি হঠাৎ কেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিল? কার স্বার্থে? তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারা যে অভিযোগ করে আসছিলেন সেটাই ঠিক—বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাইছে।খালেদা জিয়া আরও বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আজ সেই মুক্তিযুদ্ধকে জাতির বিভাজনের হাতিয়ার করার অপচেষ্টা চলছে। ইতিহাসের বিকৃতিকে আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ইতিহাসের বিকৃতি কারও কাম্য নয়। ইতিহাস নির্মাণে যাঁদের কোন ভূমিকা নেই, তাঁরাই ইতিহাস বিকৃতি করেন। এর দায় থেকে কেউ মুক্ত নন। ক্ষমতার হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে নাম কর্তন হয়, নাম যুক্ত হওয়ার মহড়া চলে। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ১৫ খণ্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রকে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই এ দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। চারদলীয় জোট আমলে তৃতীয় খণ্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটিই গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল কার নির্দেশে? এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো। ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি গায়েব করতে হবে কেন? আবার বর্তমান সরকার যেভাবে সবখান থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে তাও শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। ইতিহাসে যাঁর যেটুকু স্থান তা দিতে হবে। একাত্তরে জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। কতিপয় রাজাকার-আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ঠেকাতে পারেনি। খালেদা জিয়া কিংবা তাঁর দল বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবে না। যদি গায়ের জোরে বিচার ঠেকাতে চায়, তাহলে জনগণই তাদের ঠেকিয়ে দেবে।

Tuesday, March 16, 2010

THE LOCAL AGENT OF JEIB JMB HUJI TeL


FORMER STATE MINISTER OF HOME MR. LUTFUZZAMAN BABAR & TAREQ RAHMAN ALSO ACTIVE AGENT OF JMB HUJI & LeT IN BANGLADESH.

At the age of 42 Tareq made his first significant step in politics in 2002, when ruling Bangladesh Nationalist Party was announced that he had been promoted to a senior position. Mr Rahman rapidly acquired a reputation for being a “hatchet man” for enforcing party discipline. Mr. Rahman appears to prefer working behind the scenes. His private office “Hawa Bhavan” was widely viewed by political opponent Awami League as the driver of the country’s mismanagement and corruption during 2001 to 2006 while his mother Khaleda Zia was the Prime Minister. He rarely speaks to the press, and is renowned for his reticence in the few media interviews he has given.


Former premier and BNP Chairperson Khaleda Zia went berserk and yelled at the top of her lungs asking whether her son was such a thief that he would have to flee the country, said former state minister for home affairs Lutfozzaman Babar during questioning by the Task Force for Interrogation (TFI).
Babar was recalling his experience in planning Tarique Rahman's supposed departure from the country to avoid the incarceration he is currently in. "Before Tarique Rahman was arrested, we used to get information from different sources that he might get caught. So I, Mannan Bhuiyan, Falu and Qamrul held a secret meeting in Mannan's residence and decided that Tarique would be sent abroad for two or three years," Babar told the TFI.He said they planned that Tarique would be brought back home with a hero's welcome if BNP would come back to power again. "As everything got finalised Falu narrated the matter to Khaleda Zia using my name before he took her to Hawa Bhaban in the same evening. Listening to the plan, madam went ballistic and began shouting at the top of her lungs in her residence," Babar said."Arriving at Hawa Bhaban, she started yelling again asking where are the conspirators Mannan Bhuiyan and Babar? Is my son such a big thief that he will have to flee the country?" Babar quoted Khaleda as yelling.

Babar also told the interrogators that about a year or so ago Khaleda Zia called him in and told him that she had Tk 20 crore in different places which she wanted to keep with one Kamal. She also told him that the money would later be used during elections. Sources claimed that Babar told the investigators that Khaleda wanted to know from him whether he knew any trustworthy people with whom the money could be kept safely for a year, and in reply Babar told her that finding such people would be a very tough task for him.Babar also told the interrogators that when Khaleda raised the issue again on the next day when he went to meet her, he asked his brother to keep the money. His brother then got angry with him telling him not to get involved in such matters warning him that those kinds of activities would come back to haunt him one day. Babar said a day later he asked his brother whether he could help him as his 'madam' had given him the task trusting him.According to the sources, Babar told the interrogators that some days before he asked Khaleda for an approval to open up a bank and then he sat with some people to work out a plan. However, they told Babar that banks require a big amount of investment and the money would be collected in the name of BNP, a portion of which would be given to Babar as his share. Babar also said he whitened a large amount of money through his brother in the name of a company after his meeting with the aspiring bank owners. The former home ministry boss also said later he brought the matter to Khaleda's attention who introduced him to a man who later turned out to be the person who had arranged to hundi Tk 20 crore, a portion of which Babar used to invest in the banking business he was trying to embark on.Babar said suddenly he came to know that the Tk 20 crore was part of the money that had been taken from Warid Telecom as a bribe.
Tareq Rahman: fucking son of khaleda zia Tk 20cr Bashundhara bribe recovered from Babar
The former Home boss received the money in exchange for absolving Sobhan's son from murder charge, money deposited with BB; conglomerate paid Tk 25 lakh to AL leaders a month
The joint forces have recovered Tk 20 crore, which arrested former state minister for home Lutfozzaman Babar received from Bashundhara Group in exchange for not implicating the conglomerate's boss' son in a murder case. The forces deposited the money with Bangladesh Bank yesterday, sources said. In July last year, Humayun Kabir Sabbir, a director of Bashundhara Group owned by Ahmed Akbar Sobhan, was murdered and his body was found lying outside an apartment building in Gulshan. Sobhan's son Shafiat Sobhan was the main suspect in the killing. Sobhan came to a negotiation with Babar that he would pay him Tk 20 crore in exchange for not implicating his son in the murder case, the joint forces came to know from another Bashundhara director recently. The director told the forces that he used to reach the money in small sums to Babar at his residence, sources said.
But when the director brought Tk 1 crore to Babar one day, the former state minister felt it unsafe to receive money in that manner and asked him to take the money to Qazi Saleemul Huq, owner of GQ Ball Pen Industries and a director of Prime Bank. Saleemul deposited the money with the bank. Babar asked him to return the money at a later time, the Bashundhara director told the forces.Getting cue from the Bashundhara director, when the joint forces inquired with the Prime Bank about the money, Saleemul admitted to safekeeping the money for Babar. He also handed the money to the joint forces in a draft, which was then deposited with the central bank yesterday.After receiving the bribe, Babar had allegedly instructed the police not to proceed with the case and the Bashundhara director's murder still remains unsolved. Babar also allegedly let Sobhan's son Shafiat fly out of the country.The joint forces also deposited another Tk 7 crore with Bangladesh Bank recovered from a Chittagong businessman. The details of the businessman could not be known.Meantime, more revealing information about how Bashundhara Group expanded its business on an amazingly fast track in the last five years with the blessing of BNP Senior Joint Secretary General Tarique Rahman was extracted from arrested Awami League (AL) leaders.

AL Gulshan unit Secretary Wakil Uddin told the forces that the group used to pay Tk 25 lakh to the party on a monthly basis through Sayem Sobhan Anvir, another son of Akbar Sobhan. The money would then be distributed among the AL top leaders including Sheikh Hasina, MA Jalil, Sheikh Selim, Abdur Razzak and Tofail Ahmed.AL leaders including the party's City Secretary Mofazzel Hossain Chowdhury Maya had received more than 10 plots from Bashundhara, Wakil told the joint forces.Wakil repeated the allegations when he was brought face-to-face with Jalil and Selim yesterday. He said the money was often delivered in his presence. Jalil, however, denied the allegation.Bashundhara Group had also cheated its buyers of land by cancelling their allotment whenever land prices had shot up. The buyers were then given fresh allotment in cheaply priced locations.Bashundhara Chairman Ahmed Akbar Sobhan is on the Anti-Corruption Commission list of graft suspects. He escaped to London soon after the anti-graft drive began and has been hiding abroad since then.

Tareq Rahman’s arrest

Under the present care taker government on March 7, 2007, Tareq Rahman was arrested by law enforcing Joint Forces. He is charged with extortion and other corruptions. He initially denied the charges. But later the situation turned dramatically when other arrested BNP political leaders started to disclose information on Tareq Rahman’s corruption. Especially the arrest of former state minister for home affairs Lutfozzaman Babar on May 29, 2007 brought a huge downfall of Tareq’s public image. Mr. Babar provided evidence of Tareq Rahman’s corruption. But trail has not started for these charges yet. Khaleda Zia claimed in the court that her sons had not committed any crime as they did not need money.
====================================================================
The UN anti corruption agency declared Bangladesh “the most corrupt country in the world” 5 years in a row. In 2006 the prize passed into other hands, leaving Bangladesh in “only” third place. “Corruption is widespread, from the postman to ministers, from teachers to judges” experts note. “People constantly discuss it, politicians make promises, but no one actually believes its levels can even be reduced”.
-------------------------------------------------------------------------------------
If Ershad is barred from running in next election due to corruption charges, then what about Khaleda Zia and her family members. She must explain to people how her family became one of the richest families in the world from the day of broken suitcase and ragged T-Shirt. Her son Tareque Zia is well known as Mr.10%.

By special blessing of Khaleda Zia , from the street Falu Mia earned more than Tk1,000 Cr. Late Abdul Mannan Bhuiyan (secretary general of bnp became the owner of private TV Channel.

Vicious circle of syndicate under direct patronization of Tareque Zia plundered thousands of crores Takas from the pocket of common people by hiking the prices of all commodities. In terms of corruption, Ershad was infant compared to Khaleda Zia's family all MPs and Ministers of immediate past BNP-Jamaat govt.Most of the people in Bangladesh did not support the massive corruption done by BNP-Jamaat alliance, so people won't vote for them again. People will vote for a new govt. to punish Khaleda Zia, Tareque Zia and all other MPs and Ministers of immediate past BNP-Jamaat govt.All their properties will be seized by the newly elected govt. to form a National Trust.

So, In Coming Election the Main Agenda is to defeat toxic BNP-Jamaat alliance in order to put Khaleda Zia, Tareque Zia and all other thug MPs and Ministers of erstwhile BNP-Jamaat govt. in jail for record breaking misrule and massive corruption.

ZIAUR RAHMAN REHABILITATE THE RAZAKARS AND BANGABANDHU MURDERERS
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Ziaur Rahman, a Major in the Pakistan Army, Zia's unit (2/5 East Bengal Regiment) took control of the Kalurghat radio station in Chittagong at the onset of the Bangladesh Liberation War and on behalf of Bengali nationalist leader (Father of the Nation)Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.made the most widely transmitted declaration of independence of Bangladesh which was the third and last in a series of such declarations. Recognized as a war hero, he was honored with the second highest national award Bir Uttom in 1972. A high-ranking accomplished officer in the Bangladesh Army, Zia was appointed chief of army staff in course of dramatic events that evolved following the assassination of Sheikh Mujibur Rahman in 1975 by a group of junior military officers and these army personnel met Ziaur Rahman at his residence to killed Sheikh Mujibur Rahman.
This was followed shortly by another coup and counter-coup and ultimately led to the consolidation of power under Zia as Deputy Chief Martial Law Administrator. The counter-coup, sometimes referred to as a sepoy mutiny was organized by the socialist Colonel Abu Taher.
Ziaur Rahaman assumed the office of the President of the country in 1977 He engaged himself in politics by floating a political party that came to be known as janodal. Later he founded the Bangladesh Nationalist Party. For achieving popular support, he adopted policies bringing the government increasingly under Islam, which he included in the national constitution. It has been alleged that Zia helped individuals involved in the assassination of Sheikh Mujib rehabilitate home and abroad, immunized by the Indemnity Act. He also came to be known as Mr. Clean for his unquestionable integrity. Coup of 1975 and its aftermath On August 15, 1975 Sheikh Mujib and his family were killed by a group of military officers. One Sheikh Mujib's cabinet ministers Khondaker Mostaq Ahmad was appointed the president and, subsequently, Major General Ziaur Rahman was appointed as the army chief after removal of Major General Shafiullah. However, the coup of 15 August caused a period of instability and unrest in Bangladesh and more so across the ranks and files of the army. Brigadier Khaled Mosharraf and the Dhaka Brigade under Colonel Shafat Jamil made a counter-coup on November 3, 1975, and Ziaur Rahman was forced to resign and was put under house arrest. A third coup was staged under Colonel Abu Taher and a group of socialist military officers and supporters of the left-wing Jatiyo Samajtantrik Dal on November 7, called the "National Revolution and Solidarity Day" (Sipoy-Janata Biplob) (Soldiers and People's Coup) Brigadier Khaled Mosharraf was killed and Colonel Jamil arrested, while Colonel Taher freed Ziaur Rahman ( After few months Ziaur Rahman arrested and execute Colonel Taher )and re-appointed him as army chief. Following a major meeting at the army headquarters, an interim government was formed with Justice Abu Sadat Mohammad Sayem as chief martial law administrator and Zia, Air Vice Marshal M. G. Tawab and R ear Admiral M. H. Khan as his deputies. Zia also took on the portfolios of home affairs, finance, industry and information along with becoming the army chief of staff. However, discipline in the army had totally collapsed and it was difficult to disarm the soldiers and put them back to the barracks. Fearing that Colonel Abu Taher, who in fact rescued him few months earlier, would attempt to organise another revolt, Zia ordered his arrest. Following a secret trial in a military court, Zia authorised the execution of Colonel Taher on July 21, 1976. Zia became the chief martial law administrator following Justice Sayem's elevation to the presidency on November 19, 1976. He tried to integrate the armed forces, giving repatriates a status appropriate to their qualifications and seniority. While this angered some veterans of the Mukti Bahini, who had rapidly reached high positions following liberation in 1971, Zia defused potential threats from discontented officers by sending them on diplomatic missions abroad.
Ziaur Rahman Rehabilitate the war criminals and former Prime Minister Shah Azizur Rahman was one of them (Bengali: শাহ আজিজুর রহমান) (1925 - 1988) was a Bangladeshi politician who served as the Prime Minister of Bangladesh. However, he was the subject of considerable controversy for his collaboration with the Pakistan Army against the struggle to establish Bangladesh. Shah Azizur Rahman was born in Kushtia of the province of Bengal (now in Bangladesh). As a student political leader, Rahman participated in the Bengal Provincial Muslim League and the Pakistan movement. At the outbreak of the Bangladesh Liberation War, Rahman supported the Pakistani state forces and denounced the Bengali nationalist struggle, joining Bengali politicians such as Nurul Amin, Golam Azam and Motiur Rahman Nizami. He would lead the Pakistani delegation to the United Nations in November 1971, where he would emphatically deny that the Pakistan Army's Operation Searchlight had degenerated into genocide. Following the defeat of Pakistan in the Indo-Pakistani War of 1971, Rahman continued to reside in Pakistan. In the post-war period, authorities estimated that over a million people had been killed in Bangladesh by Pakistani state forces and collaborating militias. Rahman would continue to lobby Muslim nations in the Middle East to decline diplomatic recognition to Bangladesh.
Return to Bangladesh
Shah Azizur Rahman was permitted to return Bangladesh after liberation war. Bangabandhu Shaikh Mujibur Rahman was a good friend of him and released Shah Aziz from jail. There are saying that while Azis was in prison Bangabandhu provide his family 3,000 taka each month. When Major General Ziaur Rahman became the President of Bangladesh, zia allow Aziz to take part in national election and appointed him to the post of prime minister. Rahman also helped Zia organise the Bangladesh Nationalist Party, which won the 1978 parliamentary elections. Both Zia and Azizur Rahman have received fierce criticism for issuing the Indemnity Act, which gave amnesty to the killers of Sheikh Mujib and legalised the military coups of 1975.

Millionaire BNP Ministers Summary

Millionaire BNP Ministers Summary: Corruption is the number one problem for Bangladesh.M
Millionaire BNP Ministers Summary: Corruption is the number one problem for Bangladesh. Transparency International in its annual report placed Bangladesh

Millionaire BNP Ministers
Summary: Corruption is the number one problem for Bangladesh. Transparency International in its annual report placed Bangladesh at the top of the list of most corrupt nations in the world. Certainly, it makes the politicians in Bangladesh, especially those in power, extremely uncomfortable and worried. It is apprehended that in the coming report of Transparency International, Bangladesh is going to be placed once again at the top. Although the ruling alliance in the country are making frantic bids in cleansing the image of Bangladesh, it is well understood that, international community are yet to be convinced to the fact that, Begum Khaleda Zia’s government is doing something in eliminating corruption from different section in the country. Only recently, an intelligence agency in the country identified 11 mid ranking officials with National Board of Revenue, who own 15 luxurious villas in countries port city of Chittagong, which costs US$ 2.5 million. It is important to mention here that, monthly salary of these officials is less than US$ 400 per month! Police and Customs (revenue) are the most corrupt departments in Bangladesh. Almost all the officers, on their retirement, emerge as multi-millionaire. They acquire wealth and properties in their own name of in the names of their spouses. It is almost an open secret in the country. Government also knows these facts, but is unable to take any action.
In recent days, names of some of the members of the BNP’s cabinet in Bangladesh come as the worst corrupts. They minted money like wild gambling. Sixty members of parliament rose complaint against a particular minister, while the Prime Minister Khaleda Zia did not take any action against him. It is also learnt that, many of the family members of Prime Minister Begum Khaleda Zia are becoming fabulously rich, by using state power. The most talked about corrupt figure in Bangladesh is Tareq Rahman, eldest son of the Prime Minister. TAREQ BECAME BILLIONAIRE JUST IN FEW YEARS, WHILE MANY OF HIS FRIENDS, WHO WERE PARTNERS IN HOMOSEXUAL ACTIVITIES OR IN THE ADDICTION OF PHENSIDYL ALSO BECAME VERY RICH UNDER THE DIRECT PATRONIZATION OF THE SON OF PM BEGUM KHALEDA ZIA.
Tareq has established Hawa Bhaban, which is although considered as one of the offices of the ruling party. There are solid evidences of this office’s involvement in interfering in almost all the business and contracts in the country. Hawa Bhaban palls are considered as the most influential figures in Bangladesh. One of the Hawa Bhaban palls is Giasuddin Mamun, who is tareq’s closest friend too. Hailing from an extreme poor family in the southern part of Bangladesh, Mamun is today one of the richest men in Bangladesh through various corruption, smuggling and many other forms of illegal activities.
Surprisingly one of the assistant press secretaries of Prime Minister Khaleda Zia, Touhidul Islam alias Ashik Islam is simultaneously working in the PMO as well in Hawa Bhaban as its spokesman. Moreover, this man is also involved with Tareq’s private television channel, Channel One. There are numerous allegations on Ashik’s involvement in a number of financial irregularities as well of misappropriating state money with various excuses, government did not take any action against this man, as he is considered to be one of the closest aides of Tareq Rahman. In the PMO too, Ashik is known as an womanizer, alcoholic, bribe taker and blackmailer. Prime Minister Khaleda Zia was notified several times about this man’s illegal activities by country’s intelligence agencies. But, she could not take any action against Ashik, as Tareq always stood behind him with fullest support.
Khaleda’a own brother, Sayeed Iskander, who is a sacked major of Bangladesh army, also turned into multi-millionaire by using the influence of his sister.
Positions

why these criminals should not to be arrested?
the criminals should be punished
the corruption not to be repeated in bangladesh

US, UK seek help to recover kickbacks : Tareq Koko and Mamun and babar nama
by Mokthel Hossain Mukthi on Sunday, April 3, 2011 at 12:37pm
US, UK seek help to recover kickbacks
$200m stashed in overseas banks by Koko, ministers of 4-party government
Staff Correspondent
The US and UK yesterday sought Bangladesh's assistance in their bid to recover around $200 million allegedly paid in kickbacks to former prime minister Khaleda Zia's son Arafat Rahman Koko and some ministers of the last BNP-led government.
A delegation comprising the United States justice department's deputy chief Linda M Samuel, Federal Bureau of Investigation (FBI) agent Deborah Heprevotte and UK Institute of Management consultant Ferdous Ahmed made the request for help at a meeting with Law Minister Shafique Ahmed at his secretariat office.
They handed him a list of the persons suspected of receiving the sums during the immediate past four-party alliance rule.
Shafique last night told The Daily Star, “We have assured the delegation of help in getting back the money."
Earlier, after meeting the US and UK officials, he told reporters that the former prime minister's [Khaleda Zia] son Arafat Rahman Koko and a dozen ministers and leaders of four-party are alleged to have received $200 million in bribe for awarding work to foreign companies.
The money is currently deposited in banks across 20 countries including Singapore, United Kingdom and United Arab Emirates, he added.
He said law and finance ministries, Attorney General's Office and Bangladesh Bank will have to work together to assist in retrieval of the alleged bribery proceeds.
Attorney General Salah Uddin Ahmad and ACC counsel Anisul Huq were present at the meeting.
The delegation has been in the city for over a week. They have had several meetings with local officials concerned.
Contacted, a spokesman of the US embassy in Dhaka said their justice department officials are here to follow up the money recovery case and also widen the scope of US-Bangladesh judicial cooperation.
The US government on Thursday filed a forfeiture action against accounts holding the alleged bribes paid to Koko and others.
On December 18 last year, the Anti-Corruption Commission (ACC) disclosed that Koko has around Tk 11.43 crore stashed in a Singapore bank
Koko's parole cancelled
Asked to return home by Aug 31
Unb, Dhaka
Arafat Rahman Koko who had been on parole for treatment in Bangkok was asked to return home by August 31 and surrender before the court, official sources said yesterday.
Koko, the youngest son of BNP Chairperson and ex-premier Khaleda Zia, is facing a number of corruption cases. He was arrested during the previous caretaker government.
Later, he got parole and left for Bangkok on July 19, 2008 for better treatment as he had been suffering from respiratory problems.
His lawyer barrister Mahbubu Uddin Khokon MP told UNB yesterday night that they received a letter from the Home Ministry at about 7:00pm asking Koko to return by August 31 and surrender before court.
Responding to the Home Ministry's letter Khokon said his client Koko's physical condition is so bad that interruption to his treatment only lead to his death.
He said hospitals in Bangkok where Koko has been receiving treatment have been sending reports to the Bangladesh government every month stating his health condition. Last week, Bangladesh mission officials at Bangkok visited Koko to enquire about his health condition.
“His health condition is very bad. If necessary the government can form an inquiry team to assess his health,” Khokon said.
In reply to a question, he said a formal request will be made to the government soon to cancel the government's decision for bringing him back.
Khaleda's Press Secretary Maruf Kamal Khan told the agency an ailing person has constitutional right to live. He said the present Prime Minister who was also on parole for her treatment cannot cancel Koko's parole.
“There shouldn't be double standards of law. This is politically motivated,” Maruf said
Front Page

what of the character of the mother, Khaleda Zia, who looked the other way while her sons were robbing the country blind, what about her responsibility to the electorate that made her prime minister? And why should we give Tariq Rahman special treatment because his mother brought him up as a spoilt brat? If the army’s hierarchy has any false sense of loyalty they should collectively take a walk every morning among the poor, hungry, shelterless of Bangladesh and look at the sheer helplessness in their desolate eyes. If they do not discover to whom their loyalty must be given, they are either blind or not true to the oath of allegiance they took. If the military hierarchy makes a political deal with the corrupt, whoever they may be, there is no hope for Bangladesh.

If someone robs a house you put him in jail for a few years, white-collar criminals who take advantage of their office and/or connections must go to jail many more years.Bangladesh is at a peculiar crossroads in its nationhood, whether to carry out effective accountability before returning to full democracy or let public pressure hasten the renewal of political activity and allow the corrupt to further corrupt an already corrupted system. It would mean disaster; it will affect the survival of tens of millions. Given the temptations inherent and the exhortations of the motivated, the army’s hierarchy has done well in staying within the constitution and instead of acquiring direct power supporting civilian authority.

The Bangladesh Army chief, Lieutenant-General Moeen Ahmad, has stayed true to his word in not getting carried away by the opportunity to ride into town publicly as the country’s saviour. He must remain careful in not saying or writing anything that may give any inclination of political ambition in the future. Vested interest will not spare any opportunity to misconstrue good intention and undercut the credibility of the army’s intention and role behind the scenes because that will erode its effectiveness. It is of the utmost importance that the army’s reputation (and his) is not tainted by hint of personal ambition, except solely and wholly the well-being and future prosperity of Bangladesh.

Tariq Rahman’s case makes for a crossroads for accountability; if Ziaur Rahman’s sons are shown any leniency then the whole process of accountability will be compromised. The military hierarchy will then have no business holding anyone in Bangladesh accountable. Tariq Rahman and Arafat Rahman are acid tests for the Bangladesh Army. Fail to make them accountable and you have failed your uniform and your country. …..

More Confession
Babar cut $10m Warid deal for Koko
Staff Correspondent

Former state minister for home Lutfozzaman Babar spilled more beans as he told investigators yesterday that he had negotiated a $10 million fast-track frequency allocation deal for Warid Telecom and the booty was shared by Arafat Rahman Koko and former BNP MP Ali Asgar Lobi.

Of the amount, $9 million was given to former prime minister Khaleda Zia's younger son Koko and $1 million to detained BNP leader Lobi who had close links with detained BNP Senior Joint Secretary General Tarique Rahman and his Hawa Bhaban.

Babar also revealed during interrogation that Koko and former finance minister Saifur Rahman's son Tony took commission from a Chinese company in the name of giving it a contract for supplying telecommunications equipment. He, however, denied his involvement in the deal.

On the controversial purchase of 1,970 vehicles involving Tk 121 crore from the government coffer and a huge counterpart fund from a donor agency, he told the investigators that he did not go through the documents before signing the deal.

"It was my mistake. I even did not go through the file before signing it," Babar was quoted to have said during interrogation.

The former state minister claimed that he had no option but to approve the controversial vehicle purchase for various law enforcement departments "under pressure from the high-ups". Pacific Motors owned by former foreign minister M Morshed Khan was the prime beneficiary of the purchase proposal.

Babar, who is now on a four-day police remand, said BNP's Senior Joint Secretary General Tarique Rahman was the main backer of Pacific Motors.

The government decided to procure the 1,970 cars ahead of the Saarc summit in the capital in 2005.

The police headquarters floated a tender in which 16 importers participated. But at the last moment, the authorities changed the conditions of bidding through a circular in such a way that allowed only two importers to participate. That prompted the other bidders to lodge complaints with the government alleging corruption in the bidding process, but that did not work.

Sources said the former state minister also confessed that an official of the Bangladesh High Commission in Singapore used to look after his business there.

Sources said the former state minister gave the investigators information, which they later found to be false. Babar gave the false information to save himself, the sources added.

Babar also confessed to owning a lot of plots and flats in the names of his relatives.

Meanwhile, Tk 20 crore, which Babar took as bribe from Bashundhara Group, was deposited in the central bank's government exchequer on Wednesday in nine cheques and pay orders.

A Bashundhara Group director told the joint forces that Babar took the money in exchange for not implicating Bashundhara Group owner Ahmed Akbar Sobhan's son Shafiat Sobhan in the killing of another director of the conglomerate Humayun Kabir Sabbir.

The former state minister asked the Bashundhara men to deliver the money to Prime Bank Director Qazi Saleemul Huq who was supposed to return the money to Babar at a later time, sources said.

After receiving the bribe, Babar allegedly instructed the police not to proceed with the case and the Bashundhara director's murder still remains unsolved. He also allegedly let Sobhan's son Shafiat fly out of the country.

Bashundhara Chairman Ahmed Akbar Sobhan is on the Anti-Corruption Commission list of graft suspects. He escaped to London soon after the anti-graft drive began and has been hiding abroad since then.
http://bdcorruption.wordpress.com/